
বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সরকার দেখেছে, কিন্তু প্রায় সব সরকারের মধ্যেই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রবণতা ছিল স্পষ্ট। সহজাত দুর্নীতির পাশাপাশি দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত পক্ষপাতের মাধ্যমে দুর্নীতি বিস্তারের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। এমনকি দলনিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কেন্দ্র করে আশা ছিল—দলীয় স্বার্থের বাইরে থেকে তারা প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে এবং উপদেষ্টারা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আগের সরকারগুলোর চরিত্রগত দুর্বলতাই বর্তমান সরকারের মধ্যেও গেঁথে গেছে। তাই জনগণের অনেকেই হতাশ হয়েছেন; পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না, কেবল মুখ ও হাতবদল ঘটেছে।
প্রথম আলোর সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক জরিপকে বাস্তবতার চোখে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন বেশি—তারা আশা করছেন নির্বাচনের পর স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসবে।
১,৩৪২ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর করা জরিপটি বর্তমান সময়ে মানুষের চিন্তাধারা যথেষ্ট প্রতিফলিত করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা ও দুর্নীতি কমার প্রশ্নে পাওয়া জবাবগুলো দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে কিছু ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। যেমন—‘নারীরা বেশি আশাবাদী’—এই ফলাফলের সঙ্গে সাধারণ ধারণা পুরোপুরি মেলে না। কারণ বহু নারী এখনো আশঙ্কা করেন, ধর্মভিত্তিক দলগুলো ক্ষমতায় এলে তাঁদের সামাজিক স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হতে পারে। ফলে জরিপের এই অংশটি বাস্তব মনস্তত্ত্বের সঙ্গে কিছুটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য এসেছে।
জরিপের শেষাংশে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে মানুষের নৈরাশ্যের ছবি—অনেকে হতাশ, কেউ খুবই হতাশ। পাশাপাশি ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো মতামতই দিতে চাননি, যা জনমনে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধার ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও সরকারের চরিত্রগত পরিবর্তন সহজ হবে না। তবু পুরোপুরি হতাশ হতে চান না অনেকে—অলৌকিক পরিবর্তনের আশাটুকুই এখনো বাকি।